শুদ্ধ ভক্তির লক্ষণ




শ্রীমদ্ভাগবতের (৩/২৯/১২-১৩) ভগবান কপিলদেব তাঁর মাতা দেবহুতিকে পারমার্থিক তত্ত্ব সমন্ধে নির্দেশ দেবার সময় শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তির লক্ষণ বর্ণনা করে বলেছেন - হে মাতাঃ, যাঁরা আমার শুদ্ধ ভক্ত , এবং যাদের পার্থিব কোন লাভের বাসনা অথবা মনোধর্ম -প্রসূত জ্ঞানের প্রতি কোন আসক্তি নেই, তাদের চিত্ত সর্বদাই আমার সেবায় এত গভীরভাবে মগ্ন যে, তারা আমার কাছ থেকে আমার প্রতি অহৈতুকী ভক্তি ছাড়া আর কিছুই প্রত্যাশা করেন না। এমন কী, তাঁরা আমার ধামে আমার সঙ্গে বাস করার সৌভাগ্য পর্যন্ত কামনা করেন না।”

মুক্তি পাঁচ রকমের ,যথা - সাযুজ্য বা ভগবানের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া, সালোক্য বা ভগবানের লোকে বাস করা, সারূপ্য বা ভগবানের রূপ প্রাপ্ত হওয়া, সামীপ্য বা ভগবানের সান্নিধ্যে বাস করা এবং সাষ্টি বা ভগবানের সমান ঐশ্বর্য প্রাপ্ত হওয়া। ভগবদ্ভক্ত পার্থিব সুখভোগের কথা দূরে থাকুক , এই পাঁচটি মুক্তি কোনটিই কামনা করেন না। প্রীতি সহকারে ভগবানের সেবা করেই তিনি সম্পূর্ন তৃপ্ত। এটিই হচ্ছে শুদ্ধ ভক্তির লক্ষণ।

শ্রীমদ্ভাগবতে কপিলদেবের এই উক্তিতে শুদ্ধ ভক্তের যথার্থ মনোভাব বর্ণিত হয়েছে , এবং ভক্তির সামন্য লক্ষণও বর্ণিত হয়েছে।

শ্রীল রূপ গোস্বামী শাস্ত্র-প্রমাণের মাধ্যমে ভক্তির বিভিন্ন লক্ষণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, শুদ্ধ ভক্তির ছয়টি লক্ষণ আছে-----

১) শুদ্ধ ভক্তি ক্লেশঘ্নী , অর্থাৎ সব রকমের প্রাকৃতিক ক্লেশ তৎক্ষণাৎ নিবৃত্তি করে।
২) শুদ্ধ ভক্তি শুভদা , অর্থাৎ সর্বতোভাবে মঙ্গলময়।
৩) শুদ্ধ ভক্তি সান্দ্রানন্দবিশেষাত্মা , অর্থাৎ শুদ্ধ ভক্তি দিব্য আনন্দ প্রদান করে।
৪) শুদ্ধ ভক্তি সুদুর্লভা , অর্থাৎ শুদ্ধ ভক্তি লাভ করা অত্যন্ত দুর্লভ ।
৫) শুদ্ধ ভক্তি মোক্ষলঘুতাকৃৎ , অর্থাৎ শুদ্ধ ভক্তি মোক্ষকেও তুচ্ছ করে দেয়।
৬) শুদ্ধ ভক্তি শ্রীকৃষ্ণাকর্ষিণী, অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করার একমাত্র উপায়।

শ্রীকৃষ্ণ সর্বাকর্ষক , কিন্তু শুদ্ধ ভক্তি তাঁকেও আকর্ষণ করে। অর্থাৎ শুদ্ধ ভক্তি শ্রীকৃষ্ণের থেকেও বলবতী, কারণ তিনি হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের অন্তরঙ্গা শক্তি।

Post a Comment

0 Comments

Close Menu